shishu8সিলেটের রাজনকে হত্যা করা হয় খুটির সঙ্গে বেধে রড দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে। খুলনার রাকিবকে হত্যা করা হয় মলদ্বারে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে হাওয়া ঢুকিয়ে। বরগুনার রবিউলকে হত্যা করা হয়েছে তার চোখ উপড়ে ফেলে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আর ঢাকাতে নাম না জানা এক শিশুকে পিটিয়ে, মলদ্বার দিয়ে ধাতববস্তু ঢুকিয়ে ও গরম আয়রণ দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কেউ ছটফট ছটফট করতে করতে বলেছিলো ‘মামা, আর দিয়েন না, মরে যাবো’। কেউ চড়, থাপ্পড়, পিটুনি খেতে খেতে তৃষ্ণায় কাতর হয়ে বলেছিলো ‘আমারে পানি খাওয়াওরেবা।’ আবার কেউ বিমর্ষ হয়ে ‘মইরা গেলামরে’ বলে চিল্লাইয়া উঠছিলো। কেউবা পা ধরে ‘মাপ কইরা দেন’ বলে কাঁদছিলো।

কিন্তু নির্যাতনকারীদের মন গলেনি। তারা পৈশাচিকভাবে, উল্লাস করে, ভিডিও করতে করতে খুন করে শিশুদেরকে।

এভাবে একের পর এক নির্মমভাবে শিশুদেরকে হত্যার করা হচ্ছে। হত্যার ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে। কোনো ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে, মিডিয়াতে হৈচৈ হচ্ছে। আবার কোনোটা প্রকাশ হচ্ছে না।

বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতায় বাংলাদেশ যেন সব দেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শিশুর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন কিছুইতেই কমছে না। বরং শিশু হত্যাসহ ধর্ষণ, বলাৎকার এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা যেনো দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কিন্তু কেনো?

শিশুরা দুর্বল বলে তাদেরকে সহজে টার্গেটে পরিণত করতে পারছি আমরা? আমাদের লজ্জা করা উচিত। আমরা আমাদের বিবেক, বুদ্ধি, মানবিকতা সব শেষ করে দিচ্ছি।

আসুন, আমরা শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি। কোথাও এ জাতীয় ঘটনা দেখলেই এর প্রতিবাদ করি। নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। মহল্লায় মহল্লায় সমমনা বন্ধুদের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিই।

আমরা আর শিশুদের প্রতি সহিংসতা দেখতে চাই না।