ecb1– স্বর্ণা, একটু দাড়াও!

রঙিন কাগজে মোড়ানো প্যাকেট হাতের ছেলেটির কণ্ঠটা সুন্দর। সাদা রঙয়ের অ্যাপ্রোন পড়া মেয়েটি দাড়ালো; ঠিক আমি যেখানটায় দাড়িয়ে আছি তার ডান পাশেই!

ইসিবি চত্বরে পৌঁছামাত্রই বৃষ্টি ধরে ফেলেছে আমাকে! বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ইসিবি চত্বরের একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নিয়েছি। আমার সাথে আরও কয়েকজন।

কিছুক্ষণ পর কানে এলো একটি শব্দ! কীসের শব্দ?

গাড়ির হর্ন, রিকশার বেল আর বৃষ্টির শব্দকে ছাপিয়ে যেটি আমাদের কানে এলো?

গ্লাস ভাঙার শব্দ! ডান পাশে তাকাতেই দেখি ফুটপাতে একটি অর্ধেক ভাঙা মগ পড়ে আছে। যেখানটায় সাদা অ্যাপ্রোন পড়া সেই মেয়েটি দাড়িয়ে আছে।

আমাদের সবার কান এবার সেই দিকে চলে যায়!

– আর কক্ষোণো কোনো গিফট দিবা না।

ছেলেটি বৃষ্টিতে ভিজছে; মেয়েটি ছাতা মাথায় দাড়িয়ে। ছেলেটি একেবারেই চুপ! মুখটা মলিন।

– বুঝলা?

এবার মেয়েটির কণ্ঠটা বেশ শক্ত; ধমকের সুর। এতক্ষণে ছেলেটি ফুটপাতের ওপর বসে পড়েছে। বৃষ্টির পানি আর তার চোখের পানি একাকার হয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই দেখছি। ছেলেটি আর মেয়েটিও আমাদের দেখছে।

এরপর আর কোনো শব্দ নাই। মেয়েটিও অকারণে দাড়িয়ে আছে আর ছেলেটিও অকারণে বসে আছে। দৃশ্যটা শেষ হচ্ছে না।

স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এরকম দৃশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না।

ছেলেটি মেয়েটিকে পছন্দ করে; মেয়েটি করে না। ব্যস, ছেলেটির গিফট ছুড়ে ফেলে দিয়েই মেয়েটির হাঁটা দেওয়ার কথা! কিন্তু সেটি হচ্ছে না। কৌতুহল বাড়ছে আমাদের!

এদিকে অফিসের তাড়া। বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তা পার হয়ে ওইপাড়ে গিয়ে দাড়ালাম। জাবালে নূর কিংবা আকিক পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছি আর ওই মেয়ে আর ছেলেটির দিকে লক্ষ করছি।

আরও মিনিট দশেক পর দেখলাম; মেয়েটি চলে যাচ্ছে মাটিকাটা বাজারের দিকে। কিন্তু সেই ছেলেটি যেখানে এক হাটু ভেঙে বসে ছিলো ঠিক সেখানেই বসে রয়েছে।

আমি ছেলেটির কথা ভাবছি। ভাবছি এই বৃষ্টির কথাও! কী দারুণ কম্বিনেশন! হয়তো কিছুক্ষণ পর ছেলেটি ওঠে চলে যাবে।

জাবালে নূর চলে এসেছে। আমি উঠতে যাবো, ঠিক তখনই দেখলাম সেই মেয়েটি আবার ফিরে আসছে ছেলেটির দিকে। বাসে আর আমার উঠা হলো না। শেষ দৃশ্য দেখার জন্য; বৃষ্টির মধ্যে ঠায় দাড়িয়ে থাকলাম।

মেয়েটি অনেক দূর চলে গিয়েছিলো; কিন্তু ফিরে আসছে কেনো? আমার হিসেব মেলে না!

মেয়েটি ওই ছেলেটির পায়ের কাছে পড়ে থাকা সেই অর্ধেক ভাঙা মগটি তুলে নিলো। ভাবলাম; রাগটা কমেছে। ছেলেটির এভাবে বসে থাকাটা ওর মনে দাগ কেটেছে।

কিন্তু নাহ। এরপরে যে ঘটনাটা ঘটলো সেটা কশ্মিনকালেও আমি আন্দাজ করতে পারতাম না; যদি এই ঘটনাটা না দেখতাম!

মেয়েটি সেই অর্ধেক ভাঙা মগটি আবারও ছুড়ে ফেলে দিলো ফুটপাতে। এবার মগটি টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গেলো।

লাল রঙের মগটির টুকরো টুকরো অংশগুলো দেখে মনে হলো ছেলেটির হৃদয়টাও অতগুলো টুকরো টুকরো হয়ে ফুটপাতে পড়ে আছে!