riksha art– মামা কি খবর?
– আরে মাম্মা কি অবস্থা তোমার?
– মামায় কই যায়!
– কি যে বলেন মামা!
– মামা, ভাড়া কতো?

দেখা যাচ্ছে, রাস্তাঘাট, ক্যাম্পাস, বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও একশ্রেণীর তরুণ-তরুণী সাধারণ লোকদের ‘মামা’ বলে সম্বোধন করছে!

মাঝে মধ্যে তাদের পরস্পর মামা ডাকতেও শোনা যায়। এ সম্বোধন গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়ে যাচ্ছে।

অথচ ‘ভাই’ শব্দটি আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতিরও অংশ।

মহান একুশের বিখ্যাত গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের কয়েকটি লাইন থেকেও উদ্ধৃতি দেওয়া যায়, ‘তোমরা আমার ভাই।’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে’, ‘ভাইয়েরা আমার, ২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই…’।

পবিত্র কোরআনে সূরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জু মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, সে কথা স্মরণ রেখো। তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু। তিনি তোমাদের হৃদয়গুলো জুড়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেছো। তোমরা একটি অগ্নিকুণ্ডের কিনারে দাঁড়িয়েছিলে। তিনি তা থেকে তোমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমার সামনে সুস্পষ্ট করে তোলেন। হয়তো এই নিদর্শনগুলোর মাধ্যমে তোমরা নিজেদের কল্যাণের সরল পথ দেখতে পাবে।’

রাসূল (সা.) বিদায় হজের কালজয়ী ভাষণে বলেছেন, ‘তোমরা ধর্মভ্রষ্ট হয়ে পরস্পরের সাথে ঝগড়া ও রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না। তোমরা ভুলে যেয়ো না যে, তোমরা পরস্পর পরস্পরের ভাই।’

‘মামা’ শব্দটি নাকি কলকাতা থেকে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের ওখানে ছেলেমেয়েরা পরস্পর ‘মামা’ বলে ডাকাডাকি করে; তবে নাকি ওদের চলাফেরা করতে সুবিধা হয়।

যাই হোক, আমাদের সংস্কৃতির ব্যাপারে নিজেদের সচেতন হতে হবে।