milon bhaii1‘ও’ একটি গল্প, একটি প্রেমের গল্প।

স্রেফ একটি অক্ষর দিয়ে একটি গল্পের নামকরণ! গল্পটি পড়ার আগেই আমি গল্পের প্রেমে পড়ে যাই! আর গল্পটি পড়ার পরে আমি লেখকের প্রেমে পড়ে যাই!

১৯৭৮ সালে লেখা এ গল্পটি আমার প্রথম পড়া হয় ১৯৯৫ সালে। ‘নির্বাচিত প্রেমের গল্প’ নামের একটি বইতে পড়েছিলাম গল্পটি!

এটিই প্রথম কোনো বই যেটি আমার আব্বা আমাকে পাঠ্যবইয়ের বাইরের কোনো বই হিসেবে পড়তে দিয়েছিলেন!

নতুন বাসায় ওঠার সময় বুক সেল্ফের তাকে বই রাখতে গিয়ে আজ থেকে বিশ বছর আগের সেই প্রিয় বইটি চোখে পড়ে! আমি আত্মহারা হয়ে যাই ঐতিহাসিক এই বইটি আমার সংরক্ষণে এখনও আছে দেখে!

আমি বাসা গোছানো বাদ দিয়ে সেই বই নিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ি! একটা করে পৃষ্ঠা ওল্টাই আর একটা করে দৃশ্য ভেসে ওঠে মনের মনিকোঠায়! আমি হারিয়ে যাই কৈশরে; হারিয়ে যাই আমার দুরন্তপনার সেই দিনগুলোতে!

পৃষ্ঠা ওল্টাতে ওল্টাতে ১২৩ নম্বর পৃষ্ঠায় এসে আমি থেমে যাই! মনে পড়ে সেই সুখীকে। মনে পড়ে পহেলা বৈশাখকে! মনে পড়ে কেনো বুকের মধ্যে রিনরিনে ব্যথা ওঠে!

এটিই; হ্যা! ‘ও’ নামের এই গল্পটিই আমার জীবনের প্রথম ভালোলাগার কোনো গল্প; প্রেমে পড়ার কোনো গল্প! দেরি না করে পুনরায় পড়তে বসি।

এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলি পুরো গল্পটি। ঠিক সেই আবেগ, সেই অনুভূতি অনুভব করি। যেটা বিশ বছর পূর্বে করেছিলাম! সুখীর জন্য আমারও যে বুকের মধ্যে রিনরিনে ব্যথা হয়; সেটাও বুঝতে পারি!

হঠাৎ হাতটা চলে যায় বইয়ের প্রথম ফ্ল্যাপে। এবার আমার পলক পড়ে না; আমি চেয়ে আছি তো আছিই!

বিশাল একটি বুক সেল্ফের সামনে ড্যাশিং মুডে বসে আছেন আমার প্রিয় লেখক। ফুল সোয়েটারের ওপর হাফ কোটি, সেই সাথে স্মার্ট গোফ আর কান ঢাকা বাবরি চুল! আহ্! রোমান্টিক লেখক আমার!

এখন আর তাঁর সেই কান ঢাকা বাবরি চুল নেই, নেই সেই স্মার্ট গোফও! তবে সেই রোমান্টিক মানুষটি আরও বেশি রোমান্টিক হয়েছেন; আরও বেশি স্মার্ট হয়েছেন সেটা ঠিকই!

হ্যা! আমি বিশ্বনন্দিত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের কথাই বলছি।

আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ব্যকুল হতাম! এখন আর ব্যকুল হতে হয় না; সকালে-বিকালে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা হয়; সান্নিধ্য পাই!

আজ আমার সেই ড্যাশিং রোমান্টিক লেখকের ৬০তম জন্মবার্ষিকী। আমার জন্য বিশেষ একটি দিন।

প্রিয় লেখকের জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও অভিনন্দন।

ভালো থাকুন মিলন ভাই। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।