আমরা যারা হিসেব করে মাস চালাই। আমাদের কাছেই সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ যারা রোজ এনে রোজ খায়; তাদের কি অবস্থা হচ্ছে?

বিশ কেজির এক বস্তা চাল রিকশায় তুলে রিকশাওয়ালা আমাকে বললেন স্যার, উঠেন।

আমি রিকশায় উঠে বসি। রিকশার প্যাডেলে পা চালাতে চালাতে লোকটা পেছন ফিরে তাকান। আমি বলি, কিছু বলবেন? লোকটা বলেন, স্যার, কি আর বলবো! ভাত খাওয়া ছাড়াতো আমরা কাম করবার পারি না। তাই ভাবতেছি!

… বিষয়টা ভাব্বারই কথা।

আজকে বিশ কেজির এক বস্তা নাজিরশাইল কিনলাম প্রায় এক হাজার পাঁচশত টাকা দিয়ে। তার মানে ৭৫ টাকা কেজি দাম পড়েছে। অথচ এই সেম চাল কিছুদিন পূর্বে কিনেছিলাম এক হাজার একশ টাকা দিয়ে। মাত্র কয়েকদিনে চালের দাম কেজিতে বিশ টাকা বেড়েছে।

বিষয়টা আসলেই ভাব্বারই কথা! আমরা ভাতের বিকল্প ভাবতে পারি না! আমাদের অভ্যাস নাই।

দোকানদার আমার পরিচিত। এই এলাকায় বাসা নেওয়ার পর থেকেই তার কাছ থেকেই চাল নেই। আজ যখন এক বস্তা চাল নিচ্ছি তখন দোকানকার বলেন, ভাই, আরেক বস্তা নিয়ে যান। দাম আরও বাড়তে পারে! কিছুদিন পূর্বেও যখন চাল নিচ্ছিলাম তখনও তিনি সেম কথাই বলছিলেন। কিন্তু ওইযে আমরা যারা হিসেব করে মাস চালাই। আমাদের হাতটা একটু বাঁধাই থাকে!

বেসরকারি চালকলমালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে কত চাল আছে সেটা কেউ আমরা জানি না। দুই দিন আগে পত্রিকায় পড়লাম খাদ্যমন্ত্রী ও খাদ্যসচিব সাংবাদিকদের বলেছেন, চালের মজুতের পরিমাণ তাঁরা জানেন না।

অথচ বেসরকারি চালকলমালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে কত চাল আছে, তা জানার জন্য ২০১৩ সালে খাদ্য মজুত নিয়ে একটি আইন করেছিল সরকার। ওই আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে বেসরকারি খাতের মজুতের হিসাব খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকার কথা। কিন্তু চার বছরেও ওই হিসাব নিতে পারেনি তারা।

প্রতি সপ্তাহে চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গেল সপ্তাহে নাজিরশাল, মিনিকেট, বিআর আটাশসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত চার দশকের পর দেশে চালের দাম কখনও এতটা বাড়েনি। মোটা চালের দামও রেকর্ড ছুঁয়েছে, তাই প্রবল সঙ্কটে শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্নবিত্তরা।

এভাবে চলতে থাকলে মাসের শেষে হাত না পেতে আর উপায় থাকবে না। কিন্তু আমাদের মধ্যবিত্তদের যত সমস্যা! আমরা না পারি হাত পাততে না পারি হাত মারতে!

… অন্তত বাঙালি হয়ে ভাতে মরাটা সহ্য হবে না!