অফিসের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ করতে হয় আমাকে। প্রথমটি বাজার করা আর দ্বিতীয়টি মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসা! বাজারেরটা পরে একদিন বলবো আজ মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসারটা বলছি!

প্রায় রোজই মেয়েকে আনতে গিয়ে পড়ি মসিবতে! মেয়েকে খুঁজে পাই না। মেয়ের স্কুল ছুটি হয় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে। আমি প্রতিদিন দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে গিয়ে হাজির হই।

… ভুল বললাম! প্রতিদিন যেতে হয় না আমাকে। মেয়ের স্কুল বন্ধ সপ্তাহে দুই দিন। শুক্রবার ও শনিবার। আমাকে সপ্তাহের পাঁচদিন যেতে হয়।

যা বলছিলাম, মেয়ের স্কুল গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। গার্লস স্কুল। সবার মায়েরা যায় আনতে। আমরা হাতে গোনা কয়েকজন বাবা দাঁড়ানোর জন্য আর সামনের সিরিয়াল পাই না! তারপরও আমরা চেষ্টা করি গেটের কাছাকাছি থাকার।

কোনো দিন নীলপরীর ঝাঁক, কোনো দিন সাদাপরীর ঝাঁক, আবার কোনো দিন রঙিনপরীর ঝাঁক, গেটের দিকে আসতে থাকে! সবাইকেই আমার কাছে একরকম লাগে! কোনটা কার? বুঝতে পারি না!

ও, বলতে ভুলে গেছি! মেয়ের স্কুলের ইউনিফর্ম দুটি। একটি নীল আরেকটি সাদা। সপ্তাহের দুই দিন নীল, দুই দিন সাদা! আর শেষের দিন আউটড্রেস! এই বৃহস্পতিবারটায় আরো ঝামেলা হয়। রঙিনপরীর মেলা বসে সেদিন। মেয়েকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে যায়!

… দেখা যায় ভিড়-ভাট্টা ঠেলে মেয়েই আমাকে খুঁজে নেয়। কোনো দিন আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘বাবা! চলো’। কোনো দিন হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বলে, ‘কিটক্যাট কিনে দাও’! কোনো দিন দূর থেকেই চিল্লাইয়া ওঠে ‘বাবা’!