আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নটা পূরণ হলো। প্রকাশ করলাম “আমি মানিকগঞ্জের, মানিকগঞ্জ আমার” শ্লোগান নিয়ে “সাতদিনের মানিকগঞ্জ” নামক একটি সাপ্তাহিক। প্রকাশ করতে গিয়ে নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। শিকার হয়েছি বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থার। অনেকে হেল্প করেছেন, অনেকেই করেন নি। ৭ আগস্ট ২০১১ বাদ মাগরিব। ছোটো করে একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠান করা হয়েছিল প্রেসক্লাবে। আসলে, ইচ্ছে গুলো পূরণ করা খুবই কঠিন কাজ। মাঝে মধ্যে সামর্থের বাইরে চলে যায়। প্রথমে ডিসিশন ছিলো ৭ তারিখে ৮ পৃষ্ঠার উদ্বোধনী সংখ্যা প্রকাশ করবো। ৪ পৃষ্ঠা কালার হবে। তারপর নানা রকম জটিলতা, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে ৪ পৃষ্ঠা প্রকাশ করলাম।

“সাতদিনের মানিকগঞ্জ”
মানিকগঞ্জের সংবাদ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রকাশ করার স্বপ্নটা শুরু হয় ১৯৯৮ সনে। তখন আমি সাংবাদিক মজিবর ভাইয়ের আলোরবাণীতে লিখতাম। স্বপ্নটা আরো দানা বাঁধে ২০০৪ এ এসে। তখন আমার প্রেস ক্লাবের ঠিক বিপরীতে একটা মিডিয়া ফার্ম ছিলো। বনামি মিডিয়া কমিউনিকেশন! আমার ফার্ম থেকেই মানিকগঞ্জের সবগুলো পত্রপত্রিকা প্রকাশ করা হতো। এর পর জীবনের মোড় পাল্টে যায়, বিয়ে, দাম্পত্য জীবন, জীবনের তাগিদে দেশের বাইরে পারি, ফের দেশে ফেরত ইত্যাদি করে সবশেষে ২০১০ এ এসে সেই স্বপ্নটা বাস্তবায়নে রুপ দিতে শুরু করি। নেমে পড়ি স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও “আমি মানিকগঞ্জের, মানিকগঞ্জ আমার” দায়বদ্ধতা থেকে কিছু একটা করার যুদ্ধে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বিভিন্ন জটিলতা পার হয়ে অবশেষে জুলাইয়ের ৭ তারিখে ডিক্লারেশন পেলাম। সময় দেয়া হলো তিন মাসের মধ্যে পত্রিকা প্রকাশ করতে হবে। ইচ্ছা ছিলো কোনো ভালো দিবসে পত্রিকাটি প্রকাশ করবো। সে ইচ্ছাটা আর হলো না। শেষ মেষ প্রকাশ করলাম আগস্টের সাত তারিখে এসে। অনেকে ঢাক ঢোল পিটিয়ে শুরু করে। আমি সেভাবে পারি নি। সেভাবে করতেও চাইনি। মানুষের কাছে গ্রহনীয় ও প্রিয় হওয়াটাই আসল কথা। শুরুতে বারতি রংচং দেয়াটা আমার কাছে ভালো লাগেনি। আবার সামর্থের ব্যাপার-স্যাপার রয়েছে। নতুন একটি পত্রিকা বাজারে আসলে সবাই বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির “শুভেচ্ছা বাণী” দেন। নিয়মটা রাখতে গিয়ে আমাকে ভোর ছয়টায় মোটরসাইকেলে চরে রাত দশটায় ফিরতে হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে দৌঁড়িয়েছি সংসদ ভবন, নগর ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে। কারো সাক্ষাৎ পেয়েছি, কারো পাইনি। কেউ দিয়েছেন, কেউ দেন নি। একবার ভাবলাম, নির্ধারিত তারিখে প্রকাশ না করে এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেই। আবার ভাবলাম, না যা হয় হোক… বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবর্গের বাণী ছাড়াই প্রকাশ করবো। তাই করেছি। নিজেই পত্রিকার মেকাপ-গেটাপ দিয়ে উদয়ন প্রেস থেকে রবিবার বিকেলে ছেপে নিলাম আমার স্বপ্নের একহাজার কপি।

“প্রকাশনা অনুষ্ঠান”
বাদ মাগরিব, মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব। ছোটো একটা কেক কেটে প্রকাশনা অনুষ্ঠান করা হলো। ছানু ভাই ও বাহার ভাই আমাকে খাইয়ে দিলেন কেক। তার আগে আমি উপস্থিত সবাইকে “সাতদিনের মানিকগঞ্জ” দিলাম একটি করে। সাইফুল্রাহ ভাই ছবি তুললেন। সব শেষে মোনাজাত করা হলো।

“কৃতজ্ঞতা স্বীকার”
আমি কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও শিক্ষক শ্রদ্ধেয় সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু ভাইয়ের প্রতি। যাকে আমি প্রতিনিয়তই জ্বালাতন করি। এই করে দেন সেই করে দেন বলে। আমার বেলায় তিনি মোটেও বিরক্ত হোন না বলে সুযোগটা কাজে লাগাই বারবার। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি শ্রদ্ধেয় নূরতাজ আলম বাহার ভাই, গোলাম ছারোয়ার ছানু ভাই, সাব্বিরুল ইসলাম সাবু ভাই, বিপ্লব দা, জাহাঙ্গীর ভাই, কালাম ভাই, জুয়েল ভাই, কাজী মেসবাউর রহমান টনিক ভাই, সাইফুল্লাহ ভাই, খোরশেদ ভাই সুজন ভাইসহ আরো অনেকের কাছে। তাঁরা সবাই আমাকে খুবই স্নেহ করেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি শহীদ নানাসহ লিটন, বন্ধু জসিম, আবুল ও আশরাফকে।

“অনুপ্রেরণা পেয়েছি যাদের কাছে”
একজন অনলাইন শুভাকাঙ্ক্ষী। ইমেইলের পাওয়ার নাই কথাটা ঠিক নয়। ইমেইলের বদৌলতে উপদেশ, অনুপ্রেরণা, সাহস ফিরে পাওয়া যায়!
এবং
সেলিনা আফরোজ বৃষ্টি। যতক্ষণ সময় বাড়িতে থাকি ততক্ষণ সময় কাটে ল্যাপটপ আর ডেস্কটপের কাছে। সংসারে সময় খুবই কম দেয়া হয়। তারপরও ও আমাকে যথেষ্ট হেল্প করে। সবসময় পাশে থেকে অনুপ্রেরণা দেয়।