ইতিহাদ এয়ারওয়েজের আবুধাবীর ফ্লাইট ভোর ৫টায়। এয়ারপোর্টে গিয়ে পৌঁছালাম তিনটার দিকে। ভাইয়ার সাথে কোলাকুলি করে এয়ারপোর্টের ভিতরে প্রবেশ করলাম। উত্তরার বাসা থেকে রওয়ানা হই শুধু ভাইয়ার সাথে। বাসায় নার্গিসাপা, জামান ভাই, নাফিম, শাপলার সাথে কথা বলতে পেরেছি। তবে মা আর বৃষ্টির সাথে কেনো যেনো কোনো কথা বলতে পারলাম না। আমার গলা আটকে আসছিলো!

এর আগে কয়েকবার আত্মীয় স্বজনদের এয়ারপোর্টে ছাড়তে এসে দেখিছি তারা কতোটা স্বাভাবিক থেকেছে। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলেছে, সবার সাথে বিদায় নিয়েছে। সর্বশেষ ভাগ্নে টিপুকে ছাড়তে এসেও দেখি টিপুও স্বাভাবিক ব্যবহার করছে। দুলাভাইও স্বাভাবিক তবে আমি কেনো যেনো স্বাভাবিক ছিলাম না। টিপু যাচ্ছে সিংগাপুর, ওর মনটা যুৎসই ঠিকই কিন্তু আমি যারপরনাই অস্থির ছিলাম।

বোর্ডিংপাস, ইমিগ্রেশন শেষ করে উঠলাম ইতিহাদে। সীট জানালার পাশে। তাকিয়ে আছি বাইরে। ইতিহাদ ছেড়ে দিচ্ছে; বিমানবালা সীট বেল্ট বাঁধার জন্য বললেন। মোবাইলের সুইচ বন্ধ করতে বললেন। আমি সর্বশেষ কথা বলার জন্য বৃষ্টিকে কল দিলাম। নাহ্ কোনো কথা বলতে পারলাম না। গলাটা এক্কেরে ধরে এসেছিলো! মোবাইলের সুইচ অফ করে দেওয়ার আগে কয়েকটা এসএমএস করলাম মাত্র!

ইতিহাদ হাল্কা একটা ঝাকুনি দিয়ে উপড়ের দিকে উঠতে লাগলো। আর আমার মনে হতে লাগলো রাজ্যের সবকিছু ফেলে এক্কেরে একা হয়ে যাচ্ছি! সবচেয়ে বেশি মনে পড়তে ছিলো মা আর বৃষ্টিকে। সেদিন বোবা কান্নায় গলাটা ছিড়ে যাচ্ছিলো যেনো!