ছোট অমনোযোগ বড় বিপদ ডেকে আনে
শীতের সময় গরম পানিতে গোসল অনেকের জন্য আরামদায়ক অভ্যাস। তবে এই আরাম কখনো কখনো বড় বিপদে রূপ নিতে পারে। শীতকালে গরম পানি বা অন্যান্য গরম তরল ব্যবহার নিয়ে নানা দুর্ঘটনার খবর প্রায় প্রতিদিনই শুনতে পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো অসাবধানতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা।
গরম পানি সাধারণত আমরা চুলা, ইলেকট্রিক হিটার বা রাইস কুকার, কখনো নিজের তৈরি হিটারের মাধ্যমে গরম করি। কম দামের হিটার কিনে টিনের পাত্রে ব্যবহার করা, কিংবা ব্লেড ও তার দিয়ে নিজে বানানো হিটার ব্যবহার করাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
কয়েক মাস আগে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে এক তরুণ গরম পানিতে ঝলসে মারা গেছেন, গত বছরে সাতক্ষীরার তালায় রাইস কুকারে পানি গরম করার সময় মা ও তার কোলে থাকা এক বছরের শিশু মারা যান। একই বছরে জামালপুরের মেলান্দহে গরম পানির পাতিলে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া কয়েক বছর আগে চুয়াডাঙ্গায় গ্যাসের চুলার আগুনে এক নারীর মৃত্যু হয়েছিল। আহতের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।
নিজের বাড়িতেও দুর্ঘটনা কম হয় না। বাথরুমে গরম পানি নিয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের সঙ্গে ধাক্কা লাগা, হঠাৎ পানি ছিটকে যাওয়া বা হিটারের ভুল ব্যবহার বড় আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার এক বন্ধুর মেয়েকে গরম পানিতে ঝলসে হাসপাতালে এক মাস ভর্তি থাকতে হয়েছিল; তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
শীতকালে বাড়িতে আগুনে পোড়া বা বার্নের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। গরম পানিসহ গরম তরল ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায় অচেনা নয়। শিশু এবং বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট এবং বার্নের ঘটনা এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
গরম পানি ব্যবহার করার সময় কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। হিটার ব্যবহারে নিরাপদ পদ্ধতি মেনে চলা, শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং রান্নাঘর থেকে পানি নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। এই ছোটো ছোটো ব্যবস্থা বড় বিপদকে দূরে রাখতে পারে। শীতকালে আরামের সঙ্গে নিরাপত্তাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
(কালের কণ্ঠ । ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫)
মন্তব্যসমূহ