শালা, কবে যে আমি মন্ত্রী হবো!
আমার একটা মঞ্চ নাটকে এলাকার এক মেম্বারের ডায়লগ ছিল এমন— 'শালা, কবে যে আমি মন্ত্রী হবো!' মেম্বারের এই ডায়লগে দর্শকেরা খুব এনজয় করত; তালি দিত। বিষয়টা ছিল এমন, দুর্নীতি করতে করতে এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, মেম্বারও চিন্তা করছে সে মন্ত্রী হলে আরও বেশি দুর্নীতি করতে পারবে।
আজ অনেক দিন আগের সেই মঞ্চ নাটকের মেম্বারের কথাটাই মনে পড়ছে। আজকের দেশ রূপান্তরের অনলাইনের খবরে দেখলাম— মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমপি হতে চাচ্ছেন। তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আবার ময়মনসিংহের ত্রিশালের একজন মোটরমেকানিকও এমপি হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
আমি তো নাটকে মেম্বারের মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি ফান হিসেবে দেখিয়েছিলাম। কিন্তু আজকাল এমপি হিসেবে এমন সব লোকজন মনোনয়নপত্র কিনেছেন বা এমপি হতে চাইছেন যে এমপি বিষয়টা 'মামা বাড়ির আবদার' হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টা এমন যে— সবাই এখন এমপি হতে চায়।
অথচ এই এমপি পদটা বাংলাদেশের পদমর্যাদার সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানগণের সমমানের। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও এই কাতারের। শুধু তাই নয়, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এমনকি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এমপির পদমর্যাদার দুই ধাপ নিচে।
বাংলাদেশে ভিভিআইপি, ভিআইপি ও সিআইপি এই তিন ক্যাটাগরি বিশিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এজন্য প্রশাসনের কাছে একটি রেডবুক আছে। রেডবুক অনুযায়ী ভিভিআইপি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। আর ভিআইপি হলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সিনিয়র সচিব, সচিব, তিনবাহিনী প্রধান, পুলিশের প্রধান।
আসলে, এখন এমপি হওয়া এতোটাই সহজ যে, মার্কাটা একবার পেলেই হলো। ব্যাস! কারও কোনো দায়বদ্ধতা নেই। রাষ্ট্র নিয়ে ভাবার সময় নেই। এলাকায় না গেলেও চলে। চাই শুধু ক্ষমতা আর ক্ষমতা। আজকের দেশ রূপান্তরে দেখলাম, গত পাঁচ বছরে দলীয় কাজে একদিনও এলাকায় যাননি সাতজন এমপি। এটা বিশ্বাস করা যায়!
(দেশ রূপান্তর । ২৩ নভেম্বর ২০২৩)
মন্তব্যসমূহ