আলো ফোটার সেই সকাল ফিরে এলো

 

আজ ৫ আগস্ট। দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের করাল গ্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করার ইতিহাসগাথা দিন আজ। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফিরে পাওয়া সেই বিজয়ের দিনটি আবারও উপস্থিত হয়েছে আমাদের সামনে। গত বছরের এই দিনে আপামর ছাত্র-জনতা বিজয়ের উচ্ছ্বাসে উদ্দীপ্ত হয়ে জাতীয় পতাকা হাতে ঘর ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। জনতার ঢেউ আর তারুণ্যের সাহসিকতায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। এক অনন্য সাহসিকতার সাক্ষী হয়ে উঠেছিল ৫ আগস্ট, যেদিন শুরু হয়েছিল এক নতুন সূর্যোদয়ের যাত্রা।

এই স্মরণীয় দিনটি ঘিরে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোও প্রকাশ করেছে বিশেষ আয়োজন। প্রতিবেদন আর উপসম্পাদকীয়ের পাতায় ফুটে উঠেছে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, পতনের পূর্বমুহূর্তগুলোর বিশ্লেষণ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।

‘৩৬ জুলাই’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের আয়োজন ইতোমধ্যেই পাঠক হৃদয়ে সাড়া ফেলেছে। ‘আজ মুক্তির দিন’—এই শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিন স্মরণ করেছে স্বাধীনতার অনুরণন। প্রথম আলো তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে, ‘পতনের আগে রাতেও দমনের চেষ্টায় ছিলেন শেখ হাসিনা’। সমকাল লিখেছে, ‘মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট’; যুগান্তর বলেছে, ‘জুলাই তুমি স্বাধীন সকাল, তুমিই বাংলাদেশ’।

দেশ রূপান্তরের ভাষায়, ‘উঠিয়াছি চির বিস্ময়...’; বণিক বার্তা বিশ্লেষণ করেছে, ‘অর্ধশত বছরের ব্যবধানে দুটি রাষ্ট্রনীতিক আগস্ট’। ইত্তেফাক লিখেছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’; মানবজমিন প্রশ্ন তুলেছে, ‘অভ্যুত্থানের এক বছর, প্রত্যাশিত পরিবর্তন কতো দূর’; আমাদের সময় বলেছে, ‘জুলাই আপরাইজিং’; আজকের পত্রিকা লিখেছে, ‘সেদিন বিজয় দেখেছিল জনতা’; নয়াদিগন্ত স্মরণ করেছে, ‘হাসিনা পালানোর এক বছর’; কালবেলা লিখেছে, ‘বাঁকবদলের ৩৬ জুলাই’; আর ইনকিলাবের ভাষ্য, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভারতে পালানোর এক বছর’।

এক বছরের মাথায় ফিরে দেখা সেই অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতনের ইতিহাস নয়, বরং এটি একটি জাতির জেগে ওঠার অনুপ্রেরণার দিন। আজকের এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অন্যায় আর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একবার উঠে দাঁড়ালে ইতিহাস নতুন করে লেখা হয়। তাই ৫ আগস্ট শুধু অতীতের একটি তারিখ নয়, এটি ভবিষ্যতের এক সাহসী সম্ভাবনার নাম।

(কালের কণ্ঠ । ০৫ আগস্ট ২০২৫)

মন্তব্যসমূহ