কনটেন্ট নির্মাণে কি গল্পের দিন শেষ?

 


টিকটক, ফেসবুক রিল কিংবা ইউটিউব শর্টস—আধুনিক সময়ের বিনোদনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই ভিডিওগুলোর অধিকাংশ আসলে কী বার্তা দিচ্ছে? অনেকেই অভিযোগ করছেন, এসব ভিডিওতে না আছে কোনো পরিকল্পনা, না আছে কোনো লজিক, না আছে কোনো গল্প। তাহলে কেন মানুষ এগুলো তৈরি করছে? কেনই-বা সেগুলো এত দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে?

কারণ

এখনকার বেশির ভাগ ভিডিও সাময়িক বিনোদনের জন্য তৈরি। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন যে কেউ ভিডিও তৈরি করতে পারে। সহজ বিষয়বস্তু বা তুচ্ছ মজার ঘটনাও মানুষকে টেনে নিতে পারে। মানুষ এখন সব কিছু দ্রুত পেতে চায়। সংক্ষিপ্ত, গল্পহীন বা সহজ ভিডিও মস্তিষ্ককে আরাম দেয়। এ কারণেই এগুলোর ভিউ সংখ্যা লাখ থেকে কোটি ছাড়িয়ে যায়। ভিডিও তৈরি করে ডলার কামানোর সুযোগ তরুণ সমাজকে উদ্দীপ্ত করছে। 

সংকট

যদিও কিছু ভালো মানের ভিডিও তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। ভালো গল্পভিত্তিক ভিডিও তৈরি করতে পরিশ্রম, সৃজনশীলতা এবং সময় প্রয়োজন। কিন্তু তারকাখচিত বা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভালো ভিডিওতেও কিছু সমস্যার দেখা মেলে, যেমন অপ্রাসঙ্গিক ডায়ালগ। ভিডিওর দৈর্ঘ্য বাড়ানোর জন্য অহেতুক সংলাপ যোগ করা হয়, যা দর্শকদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

চ্যালেঞ্জ

আমাদের সমাজে সুস্থ, গল্পনির্ভর সংস্কৃতি গড়তে হলে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। গল্প, স্ক্রিপ্ট এবং ভিডিওর পরিবেশনা যেন চিন্তাশীল ও অর্থবহ হয়। সৃজনশীল ভিডিও নির্মাণের জন্য তরুণদের প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। দর্শকদের রুচি উন্নত করতে হলে ভালো মানের ভিডিওর প্রচার বাড়াতে হবে।

সমাধান

আমাদের উচিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করা, যা সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। নির্মাতাদের উচিত শুধু ভাইরাল হওয়ার চিন্তায় নয় বরং মানুষের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলার মতো বিষয়বস্তু তৈরি করা। একই সঙ্গে, অহেতুক ডায়ালগ কিংবা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু এড়িয়ে সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করা সম্ভব। দর্শকদেরও উচিত বাছাই করে এমন ভিডিও দেখা, যা তাদের সময়কে সার্থক করবে।

শেষকথা

টিকটক কিংবা ফেসবুক রিলের মতো প্ল্যাটফরম নিঃসন্দেহে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এই মাধ্যমগুলো শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে। প্রযুক্তির এই সুবর্ণ সুযোগ যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ এবং গল্পনির্ভর সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।

(কালের কণ্ঠ । ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪)

মন্তব্যসমূহ