তারুণ্যের কণ্ঠে রাজনীতির নতুন ভাষা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান এমন এক নাম, যাঁর বক্তব্য কেবল দলীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে তরুণ সমাজের চিন্তা ও আলোচনায়। তাঁর কথায় রাজনীতির চিরাচরিত কঠোরতা কম, আছে নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা আর ভবিষ্যতের প্রতি স্পষ্ট দৃষ্টি। এই কারণেই তাঁর বক্তব্যগুলো তরুণদের কাছে আলাদা গুরুত্ব পায়। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, দেশপ্রেম ও মানবিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য এক ধরনের দিকনির্দেশনা হয়ে উঠেছে।
তারেক রহমান রাজনীতিকে দেখেন জনগণের সেবার জায়গা হিসেবে। তিনি বারবার বলেন, রাজনীতি মানে ব্যক্তিগত লাভ নয়, নীতি ও আদর্শ আঁকড়ে ধরে মানুষের জন্য কাজ করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি তরুণদের রাজনীতির প্রতি অনীহা ভাঙতে সহায়ক হয়েছে। ক্ষমতা নয়, জবাবদিহিতা- এই বার্তাও তাঁর বক্তকেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়- এই সরল কিন্তু দৃঢ় বক্তব্য রাজনীতিতে ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।
গণতন্ত্র নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যাও তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র কেবল ভোট বা নির্বাচন নয়; মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এর মূল কথা। এই ভাবনা তরুণদের নাগরিক অধিকার নিয়ে সচেতন করে।ব্যে স্পষ্ট। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চললেই জাতি এগোয়, মিথ্যা কখনো স্থায়ী হয় না। এই নৈতিক অবস্থান রাজনীতিতে মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
দেশপ্রেম ও ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রশ্নেও তাঁর বক্তব্য ভারসাম্যপূর্ণ। সকল ধর্মের মর্মবাণী যে দেশপ্রেম, শান্তি ও মানবকল্যাণ- এই কথা বলে তিনি বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে ঐক্যের কথা বলেন। জনগণের আস্থার ভেতরে থাকতে হলে সঠিক কাজ করতেই হবে- এই বক্তব্য রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ তরুণদেরও আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধ করে।
তারেক রহমানের বক্তব্যে যুবসমাজ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুবসমাজই দেশের চালিকা শক্তি। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বাংলাদেশ উন্নত ও মর্যাদাবান রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। এই কথায় তরুণরা নিজেদের গুরুত্ব ও দায়িত্ব দুইই খুঁজে পায়। বাংলাদেশের জনগণই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রেরণা- এই ঘোষণা রাজনীতিকে ব্যক্তি নয়, জনগণকেন্দ্রিক করে তোলে।
রাজনীতির ভাষায় মানবিক অনুভূতিও তাঁর বক্তব্যে জায়গা পায়। ‘মা’ শব্দের গভীরতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাজনীতির বাইরে গিয়েও মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়। আবার শক্তি বা ভয় নয়, ইনসাফ ও উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করার আহ্বান রাজনীতিতে নরম শক্তির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে কল্পনা করেন নিপীড়নহীন রাষ্ট্র হিসেবে। নতুন যাত্রার কথা বলতে গিয়ে বলেন, যেখানে কেউ নিপীড়িত হবে না। এই স্বপ্ন তরুণদের আশাবাদী করে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। দেশের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাই দেশের স্বার্থে কাজ করবে- এই বক্তব্য বিভক্ত রাজনীতিতে সংলাপের পথ দেখায়।
নেতৃত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। ত্যাগ ও সততা ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। জনগণের আস্থা অর্জনে সেবা ও ত্যাগ অপরিহার্য- এই বক্তব্য রাজনীতিকে দায়িত্বের জায়গায় ফিরিয়ে আনে। কথা বলার রাজনীতি নয়, জনগণের মানোন্নয়নের রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি কর্মভিত্তিক রাজনীতির কথা বলেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনকে তিনি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার শর্ত হিসেবে দেখেন। যোগ্য নেতৃত্বই দেশ গড়তে পারে- এই বক্তব্য তিনি বারবার স্মরণ করান। প্রথাগত ছাত্ররাজনীতি বাদ দেওয়ার আহ্বান তরুণ রাজনীতির সংস্কারের ইঙ্গিত দেয়। নারীসমাজ যেন বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা বলে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির কথা বলেন।
শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়েও তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব পায়। আধুনিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলে তিনি ভবিষ্যতমুখী রাষ্ট্রচিন্তা তুলে ধরেন। ভোটের কথা বলা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি করলে ভোটের কথাই বলা হবে- এটাই স্বাভাবিক। এই বক্তব্য রাজনীতির মৌলিক বাস্তবতাকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যগুলো তরুণ সমাজের কাছে শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি মূল্যবোধের কাঠামো। তাঁর কথায় রাজনীতির কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন একসঙ্গে ধরা পড়ে। এই কারণেই তিনি অনেক তরুণের চোখে সময়ের একজন আইডল হয়ে উঠেছেন।
(কালের কণ্ঠ । ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫)
মন্তব্যসমূহ