ভোট দেবেন কাকে?
আমরা অনেক সময় ভাবি, আমার এক ভোটে কী আসে যায়। কিন্তু ইতিহাস বলছে, গণতন্ত্রে প্রতিটি ভোটই হিসাব বদলে দিতে পারে। বহু জায়গায় অল্প ব্যবধানে ফল নির্ধারিত হয়েছে। সেই একটি ভোটই কারও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে, কারও সুযোগ কেড়ে নিয়েছে। আপনি ভোট না দিলে অন্য কেউ আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে। তখন অভিযোগ করার নৈতিক শক্তিও কমে যায়।
ভোট হচ্ছে নাগরিকের আমানত, দায়িত্ববোধ, অধিকার এবং অংশগ্রহণের সম্মিলিত প্রকাশ। একটি ছোট সিলের ভেতর লুকিয়ে থাকে আগামী দিনের রাষ্ট্র, সমাজ আর আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ। তাই ভোটের মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত আসলে নিজের জীবন, পরিবারের নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং ন্যায্যতার প্রশ্নে অবস্থান নেওয়া।
ভোট মানে শুধু পছন্দের মানুষকে বেছে নেওয়া নয়, বরং যোগ্যতা যাচাই করা। যাকে ভোট দেবেন, তিনি কি সৎ? তিনি কি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন? তার কথার সঙ্গে কাজের মিল আছে? তিনি কি এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর নিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবেন? আর তার দল বা সরকার ক্ষমতায় এলে নীতিমালা কাদের উপকারে আসবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেওয়াই সচেতন নাগরিকের কাজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, আবেগময় স্লোগান বা কারও ব্যক্তিগত অনুরোধে প্রভাবিত হয়ে ভোট দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। অনেক তথ্য সেখানে অসম্পূর্ণ, অনেক কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভোটের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বিবেচনা, অভিজ্ঞতা আর বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে। নিজের বিচারবুদ্ধিকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত ফল ভোগ করবেন আপনি এবং আপনার পরবর্তী প্রজন্ম।
তাই ভোট দেওয়ার আগে একবার নয়, বহুবার ভাবুন। প্রার্থী কে, তিনি কী করেছেন, কী করতে পারবেন, তার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত। ভাবুন, আপনার সন্তান কেমন দেশ পাবে। ভাবুন, নিরাপদ রাস্তা, ভালো স্কুল, নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল, ন্যায্য সুযোগ চাই কিনা। সিদ্ধান্ত নিন নিজের বিবেকের কাছে সৎ থেকে।
(আগামীর সময় । ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
মন্তব্যসমূহ