আইএমইআই আতঙ্ক, বাস্তবতা আর নিজের হিসাব


ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সাইটে আমার এনআইডি দিয়ে মোট ১৮টি আইএমইআই নিবন্ধন দেখাচ্ছে। অথচ আমি বর্তমানে একটি মোবাইলই ব্যবহার করি। তালিকায় দেখা গেল- ২০২১ সালে দুটি, ২০২২ সালে দুটি, ২০২৩ সালে একটি, ২০২৪ সালে দুটি এবং বাকিগুলো ২০২৫ সালে নিবন্ধিত। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে একটু টেনশন হয়েছিল। এতগুলো ডিভাইস কি সত্যিই আমার নামে?

প্রথমে নিজের ব্যবহৃত মোবাইলটি চেক করলাম। দেখা গেল, ফোনটিতে দুটি আইএমইআই রয়েছে। দুটোই তালিকার সঙ্গে মিলেছে। এরপর স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইলটি দেখলাম। সেখানে আমার একটি সিম ব্যবহার হয়। সেই ফোনেও দুটি আইএমইআই রয়েছে, সেগুলোও তালিকায় আছে। অনেক আগে মেয়েকে একটি ট্যাব দিয়েছিলাম। সেটির আইএমইআই যাচাই করে দেখলাম, সেটিও তালিকায় মিলছে। এরপর পুরোনো ব্যবহার করা ফোনগুলো একে একে খুঁজে বের করে আইএমইআই মিলাতে শুরু করলাম। সবকিছুই ঠিকঠাক মিলেছে।
অনেকেই ফেসবুকে আইএমইআইয়ের লম্বা তালিকা পোস্ট করে বলছেন, তাদের নামে নাকি অজানা সংখ্যক সিম বা ডিভাইস ব্যবহার হয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, কেউ কেউ আবার দোষ চাপাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা অন্য কারও ওপর। কিন্তু একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলে বিষয়টা আসলে খুব স্বাভাবিক।
আপনার এনআইডির নামে যতগুলো সিম আছে, সেই সিমগুলো জীবনের বিভিন্ন সময়ে যেসব ডিভাইসে ব্যবহার হয়েছে, সেসব ডিভাইসের আইএমইআই তথ্য এনইআইআর সাইটে দেখা যাচ্ছে। একটি স্মার্টফোনে সাধারণত দুটি আইএমইআই থাকে। পরিবারের কারও ফোনে আপনার সিম ব্যবহার হলেও সেটির আইএমইআই যুক্ত হবে। ট্যাব, পুরোনো ফোন, বদলে ফেলা ডিভাইস- সব মিলিয়েই এই সংখ্যা বড় হয়ে যাচ্ছে।
তাই ঘাবড়ানোর আগে নিজের হিসাব নিজেই মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আগে দেখুন, আপনার নামে মোট কয়টি সিম নিবন্ধন করা আছে। এরপর জীবনে যেসব ডিভাইসে সেই সিমগুলো ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর আইএমইআই একবার মিলিয়ে দেখুন।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখবেন, তালিকার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো অমিল নেই। টেনশন করার কিছু নেই, কাউকে দোষ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। একটু সময় নিয়ে নিজের তথ্য যাচাই করলেই বিভ্রান্তি কেটে যাবে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা আর পরিষ্কার বোঝাপড়াই এখানে সবচেয়ে বড় সমাধান।

মন্তব্যসমূহ