পুনরায় ভর্তি ফি বন্ধ, তবু স্বস্তি কি মিলবে?


দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক অনিয়ম ঠেকাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার যে নতুন নীতিমালা করেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলে আর পুনরায় ভর্তি ফি দিতে হবে না। 

দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির খবর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এতে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কতটা কমবে?

বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় যে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়, তার মধ্যে পুনরায় ভর্তি ফি কেবল একটি ছোট অংশ। রাজধানীর একটি স্বনামধন্য স্কুলের উদাহরণ ধরা যাক। সেখানে পুনরায় ভর্তির জন্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এর মধ্যে এডমিশন ফি মাত্র দুই হাজার টাকা। বাকি ২৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় বিভিন্ন খাতে।

সেশন ফি প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। ডেভেলপমেন্ট ফি চার হাজার টাকা। মেইনট্যানেন্স ফি দুই হাজার টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় বিউটিফিকেশন, লাইব্রেরি, আইসিটি, ল্যাব, গেমস, ক্লাবসহ নানা খাত। অনেক সময় দেখা যায়, এসব সুবিধা সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। ছোট ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ল্যাব বা নির্দিষ্ট ক্লাব কার্যক্রমের প্রয়োজনই পড়ে না। তবু তাদের কাছ থেকেও একই হারে ফি নেওয়া হয়।

অন্যদিকে কিছু খাত আছে, যেগুলোর যৌক্তিকতা অস্বীকার করার উপায় নেই। যেমন ম্যাগাজিন, ডায়েরি, সিলেবাস, ক্যালেন্ডার, মেডিক্যাল সাপোর্ট, আইডি কার্ড, পানি, বিদ্যুৎ কিংবা এসএমএস চার্জ। এগুলো সরাসরি সেবা-সম্পর্কিত ব্যয়। 

শুধু পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল করলেই আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। প্রকৃত স্বচ্ছতা মানে প্রতিটি খাতের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা, অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত চার্জ বাদ দেওয়া এবং অভিভাবকদের সামনে স্পষ্ট হিসাব উপস্থাপন করা। শিক্ষা কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়। এটি একটি মৌলিক অধিকার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্র।

সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্ট। এখন প্রয়োজন বাস্তব প্রয়োগে কঠোরতা। নীতিমালার ভাষা যতটা পরিষ্কার, প্রয়োগও ততটাই নির্ভুল হতে হবে। নয়তো দুই হাজার টাকার ছাড় দিয়ে তেইশ হাজার টাকার বোঝা বহাল থাকলে অভিভাবকদের স্বস্তি মিলবে না।

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত সংস্কার তখনই সম্ভব, যখন স্বচ্ছতা কাগজে নয়, বাস্তবেও প্রতিফলিত হবে।

মন্তব্যসমূহ