৭১-এর চেতনায় ২৪-এর দৃপ্ত পদচারণা

 


বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও দেখে মনটা আনন্দে ভরে উঠল। এটি নিছক একটি নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিও নয়; বরং ইতিহাস, ত্যাগ আর ভবিষ্যতের স্বপ্নকে এক সুতোয় গেঁথে বলা এক মানবিক গল্প। ভিডিওটির থিমটি অর্থবহ এবং এতে একটি শক্তিশালী বার্তা রয়েছে।

ভিডিওর শুরু ভোরের মিষ্টি আলো দিয়ে। সবুজে ঘেরা এক শান্ত পরিবেশে ধীরে ধীরে জেগে ওঠে সকাল। গাছের নিচে কেউ হালকা ব্যায়াম করছেন, কেউ মাঠে হাঁটছেন। পাখির কলতানে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। একজন মানুষ মনোযোগ দিয়ে মাঠ ঝাড়ু দিচ্ছেন। এই সাধারণ দৃশ্যগুলোই ধীরে ধীরে দর্শককে নিয়ে যায় মূল গল্পের দিকে।
মাঠের পাশের একটি বেঞ্চে বসে আছেন এক তরুণ। কিছুক্ষণ পর এক বৃদ্ধ এসে তার পাশে বসেন। তরুণটি তাকিয়ে লক্ষ্য করে দেখেন, বৃদ্ধের একটি হাত নেই। কৌতূহল নিয়ে তিনি জানতে চান, “কীভাবে হলো।” বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তারপর তরুণের দিকে তাকিয়ে হালকা মুচকি হেসে বলেন, “৭১।” একটি শব্দেই সব বলা হয়ে যায়। তরুণ মাথা নেড়ে বুঝে নেন, সামনে বসে থাকা মানুষটি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়েছেন।
এরপর দৃশ্যপট বদলায়। এবার বৃদ্ধের চোখ পড়ে তরুণটির দিকে। তিনি লক্ষ্য করেন, ছেলেটিরও একটি পা নেই। জানতে চান, “আর তোমারটা?” তরুণটি শান্ত কণ্ঠে উত্তর দেন, “২৪।” তখন মুক্তিযোদ্ধা বুঝে যান, তিনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের এক যোদ্ধার পাশে বসে আছেন। স্নেহভরে তার কাঁধে হাত রেখে বাহবা দেন। দুজনের চোখে তখন একই ধরনের মুচকি হাসি। বয়স, সময় আর প্রজন্মের ব্যবধান মিলিয়ে যায় এক মুহূর্তে।
দুজন আরও কিছুক্ষণ বেঞ্চে বসে থাকেন। তারপর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “চলো, উঠি। অনেক কাজ পড়ে আছে।” তরুণও সাড়া দেন, “হ্যাঁ, আমারও অনেক কাজ আছে।” তরুণটি ক্রাচ নিয়ে উঠতে চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই মুক্তিযোদ্ধা তার হাত বাড়িয়ে তাকে টেনে তোলেন। এই দৃশ্যটি যেন প্রতীক হয়ে ওঠে। মনে হয়, ৭১-এর চেতনায় ভর করেই ২৪ আবার দাঁড়িয়ে যায়। ইতিহাস আর বর্তমানের এক অপূর্ব মিলন।
ভিডিও এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা একটি গাছের নিচে বসে শিশুদের পড়াচ্ছেন। আর তরুণটি বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে অন্য শিশুদের বল খেলার অনুশীলন করাচ্ছেন। যেন ৭১ শিক্ষা দিচ্ছেন, আর ২৪ গড়ে তুলছেন শক্ত শরীর ও সাহসী মন। দৃশ্যটি নীরব, কিন্তু বার্তাটি প্রবল। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব দুই প্রজন্মই কাঁধে তুলে নিচ্ছে।
এরপর আসে শেষ চমক। পর্দায় উপস্থিত হন তারেক রহমান। বলিষ্ঠ কণ্ঠে তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ। ৭১ থেকে ২৪—প্রতিটি অর্জনে ছিল এ দেশের মানুষের, এ দেশের জনগণের, জনতার। সেই জনতার চোখেই আমি আবারও দেখছি দেশ গড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এখন শুধু হবে কাজ, কাজ এবং কাজের কথা। সবার আগে বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ। ধানের শীষে ভোট দিন।”
পুরো ভিডিওটি শেষ হয়, কিন্তু রেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়; এটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, ত্যাগের উত্তরাধিকার আর আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয়ের এক নান্দনিক প্রকাশ। এমন ভিডিও মন ভালো করে দেয়, ভাবতে বাধ্য করে, আর নতুন করে দেশকে দেখার সাহস জোগায়।

মন্তব্যসমূহ